শনিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০১৬

ভাগবতের সৃষ্টি তত্ত্ব

ভাগবতের আলোকে মহাবিশ্বের সৃষ্টি রহস্য -পর্ব ০১

ভাগবতের আলোকে কোয়ান্টাম থিওরী (Quantum Theory) -
ভাগবতে মহাবিশ্বের যে পূর্ণাঙ্গ বর্ণনা প্রদান করিয়াছে কোয়ান্টাম তত্ত্ব সেটার অংশ বিশেষ । ভাগবতের আলোকে কোয়ান্টাম তত্ত্ব এখানে আলোচনা করা হল । পরমাণুর সংজ্ঞা -

চরমঃ সদ্বিশেষাণামনেকোহসংযুতঃ সদা ।
পরমাণুঃ স বিজ্ঞেয়ো নৃণামৈক্যভ্রমো যতঃ ।। (ভাগবত ৩/১১/১)

অনুবাদ - জড় জগতের যে ক্ষুদ্রতম অংশ অবিভাজ্য এবং দেহরূপে যাহার গঠন হয় না, তাহাকে বলা হয় পরমাণু । তাহা সর্বদা তাহার অদৃশ্য অস্তিত্ব নিয়ে বিদ্যমান থাকে, এমনকি প্রলয়ের পরেও । জড় দেহ এই প্রকার পরমাণুর সমণ্বয়, কিন্তু সাধারন মানুষের সেই সম্বন্ধে ভ্রান্ত ধারনা রয়েছে । এই শ্লোকে পরমাণুর সংজ্ঞা প্রদান করা হইয়াছে । এ বিষয়ে আমরা পরবর্তী পোষ্টে আলোচনা করব ।মহাবিশ্ব পরমাণু দ্বারা গঠিত -

সত এব পদার্থস্য স্বরূপাবস্থিতস্য যৎ ।
কৈবল্যং পরমমহানবিশেষো নিরন্তর ।।(ভাগবত ৩/১১/২)

অনুবাদ - পরমাণু হইতেছে ব্যক্ত জগতের চরম অবস্থা । যখন তাহারা বিভিন্ন প্রকারের শরীর নির্মাণ না করিয়া তাহাদের স্বরূপে স্থিত থাকে, তখন তাহাদের বলা হয় পরম মহৎ ।ভৌতিক রূপে নিশ্চয়ই অনেক প্রকারের শরীর রহিয়াছে, কিন্তু পরমাণুর দ্বারা সমগ্র জগৎ সৃষ্টি হয় । এই শ্লোকে বর্ণনা করা হইয়াছে, পরমাণু দ্বারা জগত গঠিত যাহা কোয়ান্টাম তত্ত্বে বলা হইয়াছে । ভগবান পরমাণু থেকে বিশাল ব্রহ্মান্ড সব জায়গায় বিরাজিত -

পরমাণুপরমমহতো-সত্বমাদ্যন্তান্তরবর্তী ত্রয়বিধুরঃ ।
আদাবন্তেহপি চ সত্ত্বানাং যদ্ ধ্রুবং তদেবান্তরালেহপি ।।(ভাগবত ৬/১৬/৩৬)

অনুবাদ - এই জগতে পরমাণু থেকে শুরু করিয়া বিশাল ব্রহ্মান্ড এবং মহত্তত্ত্ব পর্যন্ত সব কিছুরই আদি, মধ্য এবং অন্তে আপনি বর্তমান রহিয়াছেন । অথচ আপনি আদি, মধ্য এবং অন্ত রহিত সনাতন । এই তিনটি অবস্থাতেই আপনার অবস্থা উপলব্ধি করা যায় বলিয়া আপনি নিত্য । যখন জগতের অস্তিত্ব থাকে না, তখন আপনি আদি শক্তিরূপে বিদ্যমান থাকেন । এই শ্লোকে বর্ণনা করা হইয়াছে প্রলয়ের সময় পরমাণু ধ্বংস হইয়া শক্তিতে পরিণত হয়, আবার যখন সৃষ্টি শুরু হয় তখন শক্তি থেকে পরমাণু সৃষ্টি হয় । পরবর্তী পোষ্টে আমি আলোচনা করব সৃষ্টির শুরুতে গর্ভোদক নামক শক্তি থেকে সবকিছু সৃষ্টি হয় ।কোয়ান্টাম তত্ত্বে বর্ণনা করা হইয়াছে শক্তি হইতে পরমাণু সৃষ্টি হয়েছে কিন্তু শক্তি আসল কোথা থেকে ? এই প্রশ্নের উত্তরে বিজ্ঞানীরা বলেছেন এই মহাবিশ্বে সর্বমোট শক্তির পরিমাণ ০ (শূন্য) । এই প্রশ্নের সাথে এই উত্তরের কি সামঞ্জস্য তা আমি উপলব্ধি করতে পারছি না । আমাদের প্রশ্ন শক্তি আসল কোথা থেকে ? তার উত্তরে বলল, মহাবিশ্বের সর্বমোট শক্তির পরিমাণ শূন্য । কিভাবে এই সমস্যার সমাধান হল তা আমি উপলব্ধি করতে পারছি না । শক্তি কোথা হইতে আসিল-

শাস্ত্রে তা এভাবে প্রদান করিয়াছে
একোহপ্যসৌ রচয়িতুং জগদন্ডকোটিং যচ্ছক্তিরস্তি
জগদন্ডচয়া যদন্তঃ
অন্ডান্তরস্থপরমাণুচয়ান্তরস্থং
গোবিন্দমাদি পুরুষং তমহং ভজামি ।। (ব্রহ্ম সংহিতায় ৫/৩৫)

অনুবাদ – আমি পরমেশ্বর ভগবান গোবিন্দের ভজনা করি, যিনি তাঁহার এক অংশের দ্বারা প্রতিটি ব্রহ্মান্ড এবং প্রতিটি পরমাণুতে প্রবিষ্ট হইয়াছেন, এইভাবে তিনি সমগ্র সৃষ্টিতে তাঁহার অনন্ত শক্তির প্রকাশ করিয়াছেন ।

এই শ্লোকে বর্ণনা করা হইয়াছে ভগবানের শক্তি পরমাণুতে প্রবেশ করিবার ফলে সৃষ্টি কার্যক্রম শুরু হয় অর্থাৎ পরমাণু ভগবানের শক্তি থেকে সৃষ্টি হয় । শক্তি আসিল কোথা থেকে তার উত্তর শাস্ত্রে বলা হয়েছে, শক্তি ভগবান থেকে এসেছে । পরে আমি ব্রহ্মান্ড সৃষ্টি পর্বে আলোচনা করব এই মহাবিশ্ব প্রধান নামক একটি চিন্ময় বা বিপরীত পদার্থ থেকে সৃষ্টি হয়েছে । সুতরাং বলা যায় পরমাণু চিন্ময় বা বিপরীত পদার্থ থেকে সৃষ্টি হয়েছে যা বিজ্ঞানীদের ধারণা । সুতরাং বলা যায় বৈজ্ঞানিকেরা যে অসম্পূর্ণ কণাবাদী তত্ত্ব (Quantum Theory) আবিষ্কার করেছেন ভাগবত সেটাকে আরো পূর্ণাঙ্গভাবে প্রকাশ করিয়াছে ।

বৈদিক মহাবিশ্ব সৃষ্টি রহস্য (The Vedic Concept of Creation of the whole Universe)

মহাবিশ্ব আসিয়াছে কোথা থেকে এবং যাচ্ছে বা কোথায় ? মহাবিশ্বের কি কোন শুরু ছিল ? যদি থাকিয়া থাকে তবে তাহার আগে কি ঘটেছিল ? কালের চরিত্র কি ? কাল কি কখনও শেষ হবে ? আমি কে ? কোথা হইতে আসিয়াছি ? কোথায় যাব ? আমি এরূপ প্রশ্ন করিতেছি কেন ? এ সকল মানুষের শাশ্বত প্রশ্ন এর সঠিক উত্তর জানবার জন্য বিজ্ঞানীরা বহুদিন যাবৎ গবেষণা করিতেছে । এসব বিষয় নিয়ে অসংখ্য বিজ্ঞানী গবেষণা করিয়াছেন এবং এখনো করছে । তাহারা ইতিমধ্যে মহাবিশ্ব সৃষ্টি রহস্য বিষয়ে অনেক তত্ত্ব, মতবাদ, হাইপোথিসিস, সূত্র আবিষ্কার করেছেন । বিজ্ঞানীদের অনেক আবিষ্কার আছে পরস্পর বিরোধী একটির সাথে অন্যটির মিল নেই । মহাবিশ্ব সৃষ্টি রহস্য বিষয়ে যে সকল মতবাদ বিজ্ঞানীরা গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করিতেছে সেইগুলি নিম্নে প্রকাশ করা হইল ।

১। আইনষ্টাইনের ব্যাপক আপ

হিন্দু ও বৈষ্ণব ধর্ম

লেখকের বক্তব্য: এই লেখাটির সর্বস্বত্ব-সংরক্ষিত (কপিরাইটেড) এবং ‘বিবেকভারতী’ ব্লগে প্রকাশের জন্য বিশেষভাবে রচিত। এই লেখাটি লেখকের বিনা অনুমতিতে অন্যত্র প্রকাশ নিষিদ্ধ। এর বাণিজ্যিক ব্যবহার সকল অবস্থাতেই নিষিদ্ধ। কেবলমাত্র হিন্দুধর্ম ও আমাদের প্রিয় ভারতীয় সংস্কৃতির যথাযথ প্রচারার্থে বিনামূল্যে বিতরণের জন্যই এটি অন্যত্র প্রকাশের অনুমতি দেওয়া হবে। কারণ, এই নিবন্ধের মূল সুরটিই হল হিন্দুধর্ম ও ভারতের কল্যাণ।

ভূমিকা

আমরা যদি বিশ্বের অন্যান্য প্রধান ধর্মগুলির দিকে তাকাই, তাহলে দেখব প্রতিটি ধর্মই কোনো না কোনো একক ধর্মপ্রচারকের দ্বারা প্রবর্তিত। গৌতম বুদ্ধ বৌদ্ধধর্ম প্রবর্তন করেছিলেন ; যিশু খ্রিস্ট খ্রিস্টধর্ম এবং হজরত মহম্মদ ইসলাম ধর্ম প্রবর্তন করেন। কিন্তু আমাদের হিন্দুধর্ম কোনো এক জন মাত্র ব্যক্তির দ্বারা প্রবর্তিত হয়নি। এটি আমাদের ধর্মের একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য। কোনো এক জন মানুষের জীবনকথা হিন্দুধর্মের ভিত্তি নয়। তাহলে আমাদের হিন্দুধর্মের ভিত্তিটি কী ; এর প্রামাণিকতাই বা কোথায়? হিন্দুধর্মের ভিত্তি হল সেই পরম সত্য ; যাঁকে ঈশ্বর নামে সকল ধর্মে পূজা করা হয়। ব্রহ্মজ্ঞ ঋষিদের ঈশ্বরদর্শনের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতাই হিন্দুধর্মের প্রামাণিকতা। আমরা সাধারণ মানুষেরা ঈশ্বর সম্পর্কে যা অনুভব করি, তা অসম্পূর্ণ। একমাত্র মহান ঋষিদের কাছেই ঈশ্বরের মহান সত্যটি প্রকাশিত হয়। প্রাচীন কালের ঋষিগণ তাঁদের এই ঈশ্বরানুভূতির কথা ধরে রেখেছিলেন ‘শ্রুতি’ নামে এক শ্রেণির শাস্ত্রে।

বৈদিক সাহিত্য

বেদ

শ্রুতি কী? ‘শ্রুতি’ শব্দের আক্ষরিক অর্থ হল ‘যা শোনা হয়েছে’। সুপ্রাচীন কালের বৈদিক ঋষিরা কঠোর তপস্যা করে নিজেদের শুদ্ধ করেন। তখন তাঁরা তাঁদের হৃদয়ে স্বয়ং ঈশ্বরের বাণী শুনতে পান। ঈশ্বরের মুখ থেকে শোনা এই সত্যগুলি তাঁরা যে পবিত্র গ্রন্থরাজিতে ধরে রাখেন, তারই নাম হল ‘শ্রুতি’। শ্রুতি মানুষের লেখা বই নয় ; তাই শ্রুতিকে বলা হয় ‘অপৌরুষেয়’। শ্রুতিকেই আমরা সাধারণত চিনি ‘বেদ’ নামে। ‘বেদ’ শব্দের অর্থ ‘জ্ঞান’। এই প্রসঙ্গে স্বামী নির্মলানন্দ লিখেছেন, “হিন্দুদের কয়েকখানি বিশেষ ধর্মগ্রন্থকে কেন বেদ বলে তাহার একটি কারণ আছে। সংস্কৃতে ‘বিদ্‌’ ধাতুর অর্থ ‘জানা’। এই ধাতু হইতে নিষ্পন্ন বলিয়া ‘বেদ’ শব্দের মূল অর্থ ‘জ্ঞান’। বেদ বলিতে বিশেষতঃ ঈশ্বর, জীব ও জগৎ সম্বন্ধে পারমার্থিক জ্ঞানই বুঝায়। সৃষ্টিও যেমন অনাদি ও অনন্ত, ঈশ্বর সম্বন্ধে জ্ঞানও তেমনই অনাদি অনন্ত। ঈশ্বর সম্বন্ধে এই শাশ্বত ও অফুরন্ত জ্ঞানরাশিই বেদ শব্দের মুখ্য অর্থ। এই অপরিসীম জ্ঞানরাশির কিছু অংশের সন্ধান হিন্দু তত্ত্বদ্রষ্টাগণ পাইয়াছিলেন। তাহাই লিপিবদ্ধ হইয়া বেদ নামে প্রচলিত হইয়াছে।” বেদের আরও দুটি নাম হল ‘আগম’ ও ‘নিগম’। ‘আগম’ শব্দের অর্থ ‘যা ঐতিহ্য রূপে আমাদের কাছে এসেছে’ এবং ‘নিগম’ শব্দের অর্থ হল ‘যা জীবনের মূল সমস্যাগুলির স্পষ্ট ও নিশ্চিত সমাধান নির্দেশ করে’। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ‘আগম’ ও ‘নিগম’ তন্ত্রশাস্ত্রের দুটি বিভাগেরও নাম ; সেগুলি সম্পর্কে পরে যথাস্থানে আলোচনা করা হবে।

দেবনাগরী হরফে লেখা ঋগ্বেদের পুথি, উনিশ শতক

বেদ চারটি। যথা–(১) ঋগ্বেদ, (২) সামবেদ, (৩) যজুর্বেদ ও (৪) অথর্ববেদ। এগুলির মধ্যে ঋগ্বেদ সবচেয়ে পুরনো ও সবচেয়ে বড়ো। ঋগ্বেদ প্রধানত ‘ঋক’ বা প্রার্থনা মন্ত্রের সংকলন। হিন্দুধর্মের বিখ্যাত গায়ত্রী মন্ত্র ঋগ্বেদ-এরই অংশ। সামবেদ-এ ঋগ্বেদ-এর বাছাই করা কয়েকটি সূক্তে সুরারোপ করে কয়েকটি যজ্ঞের বিশেষ বিশেষ পর্যায়ে সেগুলি গান করার নির্দেশ দেওয়া আছে। ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতের আদি উৎস হল এই সামবেদ। যজুর্বেদ-এ রয়েছে মূলত যাগযজ্ঞের নিয়মকানুন। অথর্ববেদ অপেক্ষাকৃত পরবর্তীকালের রচনা। এই বেদে রয়েছে নীতিতত্ত্ব ও আয়ুর্বেদ ইত্যাদি কয়েকটি বিজ্ঞানের বর্ণনা।

এই চারটি বেদের প্রতিটি আবার চারটি করে অংশে বিভক্ত। এগুলি হল–(১) সংহিতা বা মন্ত্রভাগ, (২) ব্রাহ্মণ, (৩) আরণ্যক ও (৪) উপনিষদ্‌। ‘সংহিতা’ অংশে লিপিবদ্ধ হয়েছে ইন্দ্র, অগ্নি, বরুণ, বিষ্ণু, রুদ্র প্রমুখ বৈদিক দেবতার বিভিন্ন মন্ত্র ও স্তবস্তুতি। ‘ব্রাহ্মণ’ অংশে রয়েছে মন্ত্রের ব্যাখ্যা ও যাগযজ্ঞের নিয়মকানুন। কোন যজ্ঞে কোন মন্ত্র উচ্চারণ করা দরকার, তা জানা যায় ব্রাহ্মণ অংশ থেকে। প্রসঙ্গত বলে রাখা ভাল যে, ব্রাহ্মণ জাতির সঙ্গে এই গ্রন্থের কোনো সম্পর্ক নেই। ‘আরণ্যক’ অংশে রয়েছে বনবাসী তপস্বীদের যজ্ঞভিত্তিক বিভিন্ন ধ্যানের বর্ণনা। ‘উপনিষদ্‌’ অংশটিতে পরম সত্যের এক মরমিয়া ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। পরম সত্যকে উপলব্ধি করার শ্রেষ্ঠ পন্থাটিও উপনিষদ্‌ই আমাদের শিক্ষা দেয়। স্বামী হর্ষানন্দের ভাষায়, “উপনিষদ্‌গুলি হলো দার্শনিক নিবন্ধ। এদের উপজীব্য ‘বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের অন্তরালবর্তী সত্যবস্তু’, ‘মানুষের প্রকৃত স্বরূপ’, ‘জীবনের উদ্দেশ্য ও সেই উদ্দেশ্যসাধনের উপায়’ প্রভ

বেদ এবং পুরাণ

সনাতন সন্দেশ - Sanatan Swandesh Facebook-এ আছে৷ সনাতন সন্দেশ - Sanatan...
যোগদান করুন
লগ ইন করুন

পূর্ববর্তী পরবর্তী
সনাতন সন্দেশ - Sanatan Swandesh
কিছু পৌরাণিক মূর্খ কিছু কাল্পনীক রপকথার গল্প সমৃদ্ধ কিছু হাস্যকর গাথাকে শাস্ত্র হিসেবে মর্যাদা দিয়ে থাকে।যার প্রায় বেশীরভাগ অংশই পাগলের প্রলাপে ভরা যেমন হাতী,ঘোড়া,মশা,মাছি,এমন কি শহরের জন্মও মানুষের গর্ভে,পৃথিবীতে মধু,মদ,দুধের সমুদ্র,সূর্য অপেক্ষা চাঁদ পৃথিবী থেকে বেশী দূরে,সূর্য পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে প্রভৃতি যা পড়লে পাগলেও অক্কা পাবে।তার উপর বিভিন্ন নোংরা অশ্লীল বানোয়াট গল্পকে লীলা বলে চালনার পরেও যখন এরা যুক্তি তর্কে পেরে ওঠে না তখন এরা তাদের সমস্ত রাগ বেদের উপর বর্ষন করে।পৃথিবীর অন্যান্য ধর্মের অনুসারীদের মধ্যেও বিভিন্ন মতভেদ রয়েছে উদাহরন স্বরুপ মুসলিমদের মধ্য যত মতভেদই থাকুক না কেন তারা তাদের ধর্ম গ্রন্থের উপর একটা আচও লাগতে দেয় না আর সেখানে কতিপয় হিন্দু নামধারী তারা কতগুলো কাল্পনিক গ্রন্থকে শাস্ত্রের মর্যাদা দিয়ে যুক্তি তর্কে পেরে না উঠে স্বয়ং হিন্দুদের আদি তথা মূল ধর্মগ্রন্থ বেদকে নিয়েই গালিগালাজ করে!!!হিন্দুদের মূল ধর্ম গ্রন্থই বেদ বৈদিক উপনিষদ,মনুসংহিতা সর্বত্রই বেদকে সর্বোচ্চ সম্মান দিয়েছে।স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণ,রামচন্দ্র প্রভৃতি মহতী পুরুষ আর তাদেরো পূর্বে সমস্ত বৈদিক ঋষি সবাই বেদকেই মান্য করেছেন আর বর্তমানে কতিপয় পাষন্ডী ভন্ড কতিপয় গ্রন্থকে শাস্ত্ররুপে মানার পর যখন যুক্তি তর্কের অাঘাতে অাহত হয় যখন নিজেদের বানানো শাস্ত্রের অশ্নীলতা অার ভুলের কোন জবাব দিতে পারেনা তখন এরা হিন্দু ধর্মের মূল বেদকে গালিগালাজ করে।
বেদ নিয়ে নিন্দা করে কিন্তু বেদের মূল বিষয়ই এদের জানা নেই!! বেদে কোন স্থান,কাল,পাত্র বা কোন ব্যাক্তি বিশেষ,ইতিহাস,অলৌকিকতার কোন স্থান নেই।আর এরা বেদের এই মূল বিষয়ই উপেক্ষা করে তাদের মনোনীত ব্যাক্তিদের বেদ মন্ত্রে খুজে নিজেদের যুগের সর্ব শ্রেষ্ঠ জোকারে পরিণত করছে।এছাড়াও তারা বেদে অশ্নীলতার অভিযোগ তোলে!!!! যেমণ - বেদে বর্ণিত যম-যমীর সুক্তকে তারা ভাই-বোনের অজাচার সম্পর্ক বলে দাবী করে!! নিজেদের ব্রেনের সমস্যা না থাকলে কেউ বেদ মাতার অসম্মান করেনা।তারা কি বলতে চায় সৃষ্টির আদিতে বৈদিক ঋষিরা ঈশ্বরের ধ্যানের মাধ্যমে অজাচার বাণী লাভ করেছে!!??? বেদ মন্ত্র দ্রষ্টার ২৭ জন ঋষিই হচ্ছেন নারী যারা মানবজাতীর নিকট মাতৃসম পূজনীয়।ওইসব তথাকথিত পৌরাণিকরা কি দাবী করতে চায় যে এমন মহীয়ষী নারীরা অজাচার জ্ঞান তাদের পরবর্তী বংশধরদের শিখিয়ে গেছেন???? আর বর্তমানে তথাকথিত বৈষ্ণব গুলোর পরম আরাধ্য শ্রীকৃষ্ণ নিজেওতো বেদকে সম্মান দিয়েছেন। গীতায় তিনি নিজেইতো বলেছেন সমস্ত বেদের মধ্যে আমিই জানার বিষয়, আমিই ঋক,সাম ও যজুর্বেদ।ওদের ব্যাখ্যা ধরে যদি এখন ওই সব পৌরাণিকদের কাছে প্রশ্ন শ্রীকৃষ্ণই যদি জানার বিষয় হয় আর তিনি নিজেই যদি ঋগবেদ হন তাহলে যম-যমীর অজাচার কি তিনিই করেছেন???? বেদের নিন্দা করলেতো গীতা অনুযায়ী তাদের আরাধ্যকেই নিন্দা করা হচ্ছে আর বেদের মধ্যে অশ্নীলতা খুজলেতো স্বয়ং তাদের উপাস্যকেই অশ্নীল বলা হচ্ছে আর ওই সকল অজ্ঞানী পৌরাণিকের দল বেদকেই নিন্দা করে!!! যাই হোক এবার মূল বিষয় বিষয়ে আসা যাক-
ঋগবেদ ১০.১০ সুক্তে যম এবং যমীর বর্ণনা আছে যেখানে যমী যমের সন্নিকটে এসে মিলিত হতে চায় যাদের পিতা হচ্ছে বিবস্বত তথা সূর্য।
এখন যে সমস্ত পৌরাণিক উক্ত সুক্তে যম এবং যমীকে ভাই বোনের অজাচার হিসেবে দাবী করে তাদের এ দাবীর মূল উৎস কোথায়??? বেদ অনুবাদ করতে গেলে প্রাচীণ গ্রন্থ সমূহ নিঘর্ন্টু,নিরুক্ত,পাণীনি শাস্ত্রের মতন বৈদিক ব্যকরন গ্রন্থের প্রয়োজন হয়।বেদের দুরুহ সংস্কৃত শব্দের প্রকৃত বূৎপত্তিগত শব্দের অর্থ সমূহ সেখানে বিস্তর ব্যাখ্যা সহ রয়েছে।আর বেদের অর্থ এই সমস্ত ব্যাকরণ গ্রন্থ ছাড়া করা কোনদিনো সম্ভব নয় সেই সাথে রেফারেন্স হিসেবে ব্রাহ্মন গ্রন্থেরও প্রয়োজন হয় শব্দের অর্থ করতে তাই কেউ তার নিজস্ব মনগড়া অনুবাদ বা ব্যাখ্যা করে বেদের নামে অপব্যাখ্যা করলেইতো হবে না প্রমাণস্বরুপ এর ব্যাখ্যা দিতে হবে উক্ত নোংরা শব্দের অর্থ কোন বৈদিক ব্যকরণে আছে।আর একমাত্র নিচু মনমানিষকতার ব্যক্তিই কোন প্রমাণছাড়া বেদকে অশ্নীল দাবী করে নিজেদের নোংরামীর পরিচয় দেয়।আর সেই সাথে নিজেদের আরাধ্য শ্রীকৃষ্ণকেও।
.
প্রথমেই পৌরানিকদের পরম শ্রদ্ধেয় ভাষ্যকার সায়ণের কথা ধরা যাক। সায়ণ নিজেও এখানে যম-যমী কে ভাই বোনের অজাচার হিসেবে মান্য করেন নি ।তার ভাষ্যেও যম কে দিন এবং যমীকে রাত করেছেন। এমনকি ওয়েষ্টার্ণ আইডিওলজিষ্ট যেমন ম্যক্স মূলারও যম-যমী অর্থ রাত আর দিন করেছেন।তাহলে এখানে ওইসব মূর্খ কিসের ভিত্তিতে এমন জঘন্য অপবাদ দেয় বেদকে??
সংস্কৃত হাজারো শব্দের একাধিক অর্থ রয়েছে।সুক্তের বিষয়বস্তু অনুযায়ী উপযুক্ত অর্থ প্রয়োগ হয়। যদিও মহান অশিক্ষিত মূর্খ পৌরাণিকদের দাবী ওই সায়ণের ব্যা

বেদ না ভাগবত?


মঙ্গলবার, ২ আগস্ট, ২০১৬
ভাগবতে বেদে প্রত্যাবর্তনের নির্দেশ

বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম তথা বিভিন্ন সাইটে কিছু নামধারী মূর্খ বৈষ্ণবদের লক্ষ্য করা যায়। এদের কাজ হলো মানুষকে বেদের পথ থেকে সরিয়ে আনা। যার ফলস্বরূপ সকাল সন্ধ্যা এদের মুখ দিয়ে বেদ নিন্দার ফূলঝুরি ছোটে। বেদ নিয়ে বিভিন্ন অশ্লীল লেখা এরা পোষ্ট করে। বেদের মধ্যে খোজে অশ্লিলতা। যদিও এরা নিজেদের নামে সনাতনি টাইটেল ব্যবহার করে। আদৌ এরা সনাতনি কি না সে ব্যাপারে যথেষ্ঠ সন্দেহ আছে। মজার বিষয় হলো এরা নিজেদের ভাগবত পাঠি বলে মনে করে।
ভাগবত কে বেদের চেয়েও সর্বোচ্চ গ্রন্থ বলে স্বীকার করে। কিন্তু এরা জীবনে ভাগবত পড়া তো দূরে থাক ভাগবত চোখে দেখেছে কি না সন্দেহ।কারন ভাগবত যদি তারা অধ্যয়ন করতো তবে বেদ নিয়ে অশ্লিল কথাবার্তা তো দূরে থাক। বেদ নিয়ে খারাপ চিন্তা মাথাই আনার আগে সহস্রবার ভাবতো।
এই লেখায় আমরা দেখবো বেদ সম্পর্কে ভাগবতের অভিমত কি?
রাজা নিমিকে কর্মোযোগ সমন্ধে উপদেশকালে শ্রীআবির্হোত্র স্বীকার করেছেন যে, বেদ অপৌরষেয় অর্থাৎ ঈশ্বরস্বরূপ এবং এর অর্থ বোঝা সুকঠিন -
.
★ ভাগবত ১১।৩।৪৩
কর্ম (শাস্ত্র বিহিত) অকর্ম (নিষিদ্ধ) এবং বিকর্ম (বিহিতের উলক্ষন) এর বিচার বেদ দ্বারাই সম্ভব। লৌকিক রীতিতে এর ব্যবস্থা হয় না। বেদ অপৌরষেয় অর্থাৎ ঈশ্বরস্বরূপ। তাই বেদের তাৎপর্য অবশ্যই সুকঠিন কার্য। অতি বিদ্বান ব্যক্তিগন বেদের অভিপ্রায় নির্ণয় করতে ভূল করে থাকেন।
.
এসব নামধারী বৈষ্ণবরা এবার একটু বেশী বুঝে বলবে যে, বেদে স্বর্গাদি প্রাপ্তির জন্য বিভিন্ন পুষ্পিত বাক্যে প্রলোভন দেখানো হয়েছে। যেসবে আমরা মোহিত হই না। এর উত্তর স্বয়ং ভাগবত নিজেই দিয়েছেন -
.
★ ভাগবত ১১।৩।৪৪
এই বেদ পরোক্ষবাদাত্মক অর্থাৎ শব্দার্থ অনেক স্থলে তাৎপর্যের মার্গ দর্শন করে না। বেদ কর্ম নিবৃত করণহেতু কর্মের বিধান দেয়। বালককে মিষ্টির লোভ দেখিয়ে যেমন ঔষধি সেবন করানো বিধেয়। তেমনই বেদ অনভিজ্ঞদের স্বর্গাদির প্রলোভনে তাদের শ্রেষ্ঠ কর্মে প্রবৃত্ত করে।
.
★ ভাগবত ১১।৩।৪৬
অতএব ফলের অভিপ্রায় ত্যাগ করে এবং বিশ্বাত্মা ভগবানকে কর্মফল নিবেদন করে যে বেদোক্ত কর্মানুষ্ঠান করে তার কর্ম নিবৃতিতে অপ্রাপ্ত জ্ঞানরূপ সিদ্ধি লাভ হয়। বেদে স্বর্গাদি ফল লাভের বর্ণনা শব্দাদির সত্যতার মধ্যে সীমিত নয়। তার কর্মে রূচি উৎপন্ন করবার জন্যই।
.
এখানে স্পষ্ট যে, বেদে স্বর্গাদির বর্ণনা তাদেরই জন্য যারা বেদে অনভিজ্ঞ। তাদের বেদের পথে আনার জন্যই এরূপ বর্ণনা।
এখন বেদের বিভক্তি এবং মূখ্য বিষয় কি তা নিয়ে একটু আলোচনা করা যাক। এ বিষয়ে শ্রীকৃষ্ণ স্পষ্ট বলছেন-
.
★ ভাগবত ১১।২।৩৫
হে উদ্বব! বেদ সকল কর্ম, উপাসনা ও জ্ঞান এই তিন কান্ডে বিভক্ত। তিন কান্ডে প্রতিপাদিত মূখ্য বিষয় হলো ব্রহ্ম ও আত্মার একাত্ম। মন্ত্রসকল ও মন্ত্রদ্রষ্টা ঋষিগন এই বিষয় কে মূক্ত কন্ঠে ঘোষনা না করে গুপ্তভাবে বলেছেন। আমারো তাই অভিষ্ট।
.
★ ভাগবদ ১১।২।৩৬
বেদসকল বস্তত শব্দব্রহ্ম। তারা আমার প্রতিমূর্তি। তাই তার রহস্য বোঝা অত্যন্ত কঠিন কর্ম। সেই শব্দব্রহ্ম পরা, পশ্যন্তি ও মধ্যমা বাণীরূপে প্রাণ, মন এবং ইন্দ্রীয়ময়। তা সমুদ্রবৎ সুবিশাল এবং গভীর। তার নাগাল পাওয়া কঠিন।
.
অথচ এসব নামধারী বৈষ্ণবরা অতি সহজেই বেদ বুঝে ফেলে। আর সেই সাথে অশ্লিলতার ঢোল বাজিয়ে দিবা সূর্যের অস্ত ঘটায়।
এখন বেদ কিভাবে এবং কার কাছ থেকে অভিব্যক্ত হয়েছে সে বিষয়ে শ্রীকৃষ্ণ আলোকপাত করছেন-
.
★ভাগবত ১১।২১।৩৮,৩৯
ভগবান হিরণ্যগর্ভ স্বয়ং বেদমূর্তি এবং অমৃতময়। প্রাণ তার উপাধি এবং স্বয়ং অনাহত শব্দ দ্বারাই তার অভিব্যক্তি হয়েছে। যেমন উর্ণনাভ নিজ মুখ দ্বারা জাল বিস্তার করে আবার তা গিলে ফেলে। তেমনভাবেই তিনি স্পর্শাদি বর্ণসকল সংকল্পকারী মনরূপ নিমিত্ত করণ দ্বারা হৃদয়াকাশ থেকে অপার অনন্ত বহু মার্গ সম্পন্ন বৈখরীরূপ বেদ বাণীকে স্বয়ং অভিব্যক্ত করেন।
.
স্পষ্ট হলো যে বেদ স্বয়ং ঈশ্বর থেকেই ব্যক্ত হয়েছে। যা সম্পূর্ণ ঈশ্বরীয় জ্ঞান। আর এরা ঈশ্বরীয় জ্ঞানে অশ্লিলতা খোজে। এর থেকে বড় মূর্খামী আর কিছু হতে পারে না।
এখন দেখার বিষয় এই যে, কেউ যদি বেদের নির্দেশিত পথ না মানে। এবং খেয়াল খুশিমত ধর্মের আচরন করে তার গতি কি হবে-
.
★ ভাগবত ১১।৩।৪৫
যার অজ্ঞান নিবৃত্ত হয় নি, ইন্দ্রীয়সকল বশীভূত নয় সে যদি খেয়াল খুশি মতো বেদোক্ত কর্মের আচরন পরিত্যাগ করে তাহলে সে বেদ বিহিত কর্ম না করার জন্য বিকর্মরূপ অধর্ম করেই করে। তাই সে পুনঃমৃত্যু অর্থাৎ পুনঃ পুনঃ জন্ম চক্রে আবর্তিত হতে থাকে।
.
অর্থাৎ এ শ্লোকে এটা স্পষ্ট হয়েছে যে, বেদ বিহিত কর্ম যদি কেউ না করে তবে তা নিশ্চিত রূপে অধর্ম।
এ কথা অজামিলের উপাখ্যানে যমদূতরা ও স্বীকার করে বলেছেন, "যা বেদ বিহিত তাই ধর্ম, আর যা বেদ নিষিদ্ধ তাই অধর্ম।। ভাগবত ৬।১।৪০" এবং সে পুনর্জন্মের চক্রের বার বার আবর্তিত হবে। শুধু তাই নয় সে যদি

শুক্রবার, ২১ অক্টোবর, ২০১৬

বুদ্ধ দর্শন

বৈদিক দর্শনের আত্মাবাদের সাথে বৌদ্ধ দর্শনের আত্মাবাদের আলোচনা
-    সাধনাজ্যোতি ভিক্ষু
বি, এ (অর্নাস) এম, এ (সি, ইউ) এম, এড (ডি,ইউ)


ভূমিকা ঃ সাধারনত আত্মা বলতে দেহাতিরিক্ত কোন অজড় নিত্য দ্রব্যের ধারণা করা হয়। চৈতন্য
যার স্বাভাবিক গুণ। এই আত্মার জন্য জ্ঞাতা, কর্তা ও ভোক্তা। এই আত্মার অস্তিত্বের জন্য ব্যক্তি অভিন্নতা সুচিত হয়। ভারতীয় দর্শনে আত্মা এবং মন সমার্থক শব্দ নয়। আত্মা মন থেকে ভিন্ন এক সত্তা। মন হল অন্তরিন্দ্রিয় যার সাহায্যে আত্মা বিভিন্ন মানসিক অবস্থা গুলো প্রত্যক্ষ করে। নিম্নে বৈদিক দর্শনের ও বৌদ্ধ দর্শনের আত্মাবাদের আলোচনা করা গেল ঃ
বৈদিক দর্শন ঃ বৈদিক দর্শন বলতে আমরা বেদের সমর্থন পুষ্ঠ ষড়দর্শনকে বুঝি আর এগুলোকে আস্তিক দর্শনও বলা যায়। এগুলো হচ্ছে- ন্যায়, বৈশেষিক, মীমাংসা, সাংখ্য, যোগ ও বেদান্ত।

ন্যায় মত ঃ নৈয়ায়িকদের মতে, আত্মা হল দ্রব্য এবং এই দ্রব্যকে আশ্রয় করে চেতনা থাকে। আত্মা হল জ্ঞাতা, কর্তা ও ভোক্তা। দেহ, ইন্দ্রিয়, মন সবগুলো আত্মা করন: যে গুলো আত্মার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। আত্মা, দেহ, বাহ্য, ইন্দ্রিয় এবং মনের অতিরিক্ত এক স্বতন্ত্র সত্ত্বা। চৈতন্য আত্মার স্বাভাবিক বা অবিছেদ্য গুণ নয়। আত্মা স্বরুপতঃ অচেতন ও নিষ্ক্রিয়। আত্মা যখন মনের সঙ্গে, মন ইন্দ্রিয়ের সঙ্গে এবং ইন্দ্রিয় বাহ্যুবস্তুর সঙ্গে সম্বন্ধযুক্ত হয়। তখন আত্মার আবির্ভাব ঘটে। নিষ্ক্রিয় বা নির্গুণ আত্মা, ভোক্তারুপে সব কিছু ভোগ করে। আত্মা স্বরুপতঃ অচেতন দ্রব্য এবং মোক্ষ অবস্থায় আত্মা নিজ স্বরুপে অবস্থান করে।

বৈশেষিক মত ঃ বৈশেষিকদের মতে, আত্মা সম্পর্কীয় নৈয়ায়িকদের ধারণা অনুরুপ। আত্মা হল এক শ্বাশত এবং সর্বব্যাপী দ্রব্য। আত্মা হল জ্ঞান বা চেতনার আশ্রয়। আত্মা  বিভূ হলেও শরীল ভেদে ভিন্ন ভিন্ন। আত্মা নিত্য, আত্মার কোন বিনাশ নেই। আত্মা স্বরুপত অচেতন, কিন্তু দেহের সংস্পর্শে এসে আত্মা চেতনা লাভ করে। যেহেতু আত্মা স্বরুপতঃ নির্গুণও নিষ্ক্রিয় সে কারণে চৈতন্য আত্মার স্বাভাবিক গুন নয়, আগন্তুকও নয়।

মীমাংসক মত ঃ মীমাংসকদের মতে, আত্মা, দেহ, মন ও বুদ্ধি ভিন্ন এক স্বতন্ত্র সত্ত্বা। প্রভাকর মিশ্র ও কুমারিল ভট্ট উভয়ের মতে, আত্মা একটি দ্রব্য তবে প্রভাকরের মতে, আত্মা নিগুর্ন ও নিষ্ক্রিয়। চৈতন্য আত্মার স্বাভাবিক ধর্ম নয়, কিন্তু কুমারিলের মতে, চৈতন্য আত্মার স্বাভাবিক ধর্ম। প্রভাকর মীমাংসকদের মতে, আত্মা জ্ঞাতা, সেহেতু আত্মা জ্ঞেয় হতে পারে না তবে বিষয়ের উপলদ্ধির সময় জ্ঞাতারুপে আত্মা জ্ঞাতারুপে আত্মার উপলদ্ধি ঘটে। ভট্ট মীমাংসকদের মতে, প্রতিটি বিষয়ের উপলদ্ধির সঙ্গে আত্মা জ্ঞাতারুপে প্রকাশিত হয় না। কেবলমাত্র আত্মা সচেতনার ক্ষেত্রে আত্মা বিষয় রুপে উপলদ্ধি হয়।

সাংখ্য ও যোগ মত ঃ সাংখ্য ও যোগ দর্শনমতে, আত্মা, দেহ, মন, ইন্দ্রিয় বুদ্ধি বা জড়জগতের কোন বস্তু নয়। আত্মা প্রকাশ চৈতন্য স্বরুপ। আত্মা চৈতন্য গুন বিশিষ্ট দ্রব্য নয়। চিৎ বা জ্ঞান আত্মার ধর্ম বা গুণ নয়, আত্মাই চিৎ স্বরুপ বা জ্ঞানস্বরুপ। আত্মা নিত্য, অপরিনামী, নির্গুণ ও নিষ্ক্রিয়। সাংখ্য ও যোগ দর্শন মতে, আত্মা চিত্তবৃত্তি থেকে স্বতন্ত্র এক আধ্যাত্মিক।
বেদান্ত মত ঃ অদ্বৈতবেদান্ত মতে, আত্মা বিশুদ্ধ চৈতন্য স্বরুপ, নিরবয়ব বা নিরংশ। আত্মা নির্বিশেষ, নিত্য, অখন্ড, আদি ও অন্তহীন, আত্মার বহুত্ব সম্ভব নয়। ব্যবহারিক দৃষ্টিতে আত্মা বহু, কিন্তু পরমার্থ দৃষ্টিতে আত্মা এক। পরমাত্মাই ব্রহ্ম। এক ব্রহ্ম মায়া প্রভাবে নানা উপাধিযুক্ত হয়ে জীবত্মারুপে প্রতিভাত হয়।

বৌদ্ধ দর্শন ঃ বৌদ্ধ দর্শন মতে, আত্মা অভিজ্ঞতাবাদী বৌদ্ধ দার্শনিকগণও কোন শ্বাশত বা চিরন্তন আত্মার অস্তিত্ব স্বীকার করে না। কোন এক মহুর্তে আমাদের মধ্যে আমরা যে সব মানসিক প্রক্রিয়া গুলো দেখি সে সব মানসিক অন্তরালে কোন শাশ্বত বা চিরন্তন সত্তার আস্তিত্ব নেই। মানুষের মধ্যে কোন অপরিবর্তনীয় সত্তার অস্তিত্ব না থাকলেও মানুষের জীবনের বিভিন্ন অবস্থার মধ্যে একটা ধারাবাহিকতা আছে, তার দ্বারা ব্যক্তি অভিন্নতা ব্যাখ্যা করা চলে। শ্বাশত আত্মার স্বীকার না করেও বুদ্ধ জন্মান্তর অর্থে কোন চিরন্তন অর্থে বর্তমান জীবন থেকে পরবর্তী জীবনের উদ্ভব। জীব হল মানসিক প্রক্রিয়ার প্রবাহ। এই মানসিক প্রক্রিয়া এক জন্ম থেকে আর এক জন্মে প্রবাহিত হয়। মানুষ পঞ্চস্কন্ধের সৃষ্টি এই পঞ্চস্কন্ধ হল- রুপ, বেদনা, সংজ্ঞা, সংস্কার এবং বিজ্ঞান।

বুদ্ধমতে, যারা শ্বাশত অখন্ড আত্মার কথা বলেন তারা মূলতঃ পঞ্চস্কন্ধকে একত্রে বা কোন একটিকে প্রত্যক্ষ করে শ্বাশত আত্মার কথা বলে থাকেন।

আত্মা সম্পর্কে ভারতীয় দর্শন সম্প্রদায়ের বিভিন্ন মতামতের সমালোচনায় বলা যায়, নৈয়ায়িক ও বৈশেষিকদের আত্মা সম্পর্কীয় ধারণা সন্তোষ জনক নয়। তাদের মতে আত্মা, স্বরুপতঃ অচেতন এবং নির্গুণ, কিন্তু এই ধারণা যুক্তিযুক্ত নয়। কেননা আত্মা যদি স্বরুপতঃ অচেতন হয় তাহলে আত্মার সঙ্গে জড়বস্তুর পার